Wednesday, July 17, 2013

Gomen'nasai

I'm sorry Abbu, I couldn't be there. At the end. No, that was a lie. I could've been there, I just wasn't. I didn't catch the bus home on the day before. I didn't do it until it was far too late.

I'm sorry I rarely listened to your advices at one period. That period of time when I believed in my own intellectual superiority so much, disregarded almost everything you said.

I'm sorry all those times you made the trip to Dhaka just to meet us, I didn't make more time for you.

I'm sorry I put off going home during vacation for as much as I did.

I'm sorry that those times that I did go, I didn't spend more time with you and Ammu. Didn't wake up in time to have breakfast with you. Didn't distract myself from my own little world for enough time to maybe do some of the things you suggested.


I'm sorry Abbu, I haven't changed. I'm still hurting Ammu much in the same way.


Thursday, July 11, 2013

দি মাইটি তিন-স্টিক



ছবির এই জায়গাটা বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনের চৌরাস্তায়। এই যে বস্তুটা দেখা যাচ্ছে(এবং যার উপর আমি দাঁড়িয়ে আছি) এটার পারপাজ কি কখনোই বুঝে উঠতে পারি নাই। হয়তো ট্রাফিক পুলিশের দাঁড়ানোর জন্য রেডি করা, হয়তো অন্য কিছু। এর অফিশিয়াল ইউজ কখনোই কাউরে করতে দেখি নাই, এইটারে কি বলে তাও জানি না, জানতেও চাই না।
আমাদের কাছে এইটা অনেক বেশি কাছের একটা জায়গা। আমাদের কাছে এইটা বিভিন্ন হলের বন্ধুদের এসে মিলিত হওয়ার জায়গা। আমাদের কাছে এটা আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়ে দেওয়ার জায়গা। আমাদের জন্য এটা অনেক অনেক সুখ-দুঃখ শেয়ার করার জায়গা। কোন আইডিয়া নিয়ে বকরবকর করে রাতকে দিন বানিয়ে ফেলার জায়গা। ফজরের আযান শোনার পরও "রাত আরও বাকি আছে, আরো কিছুক্ষন আড্ডা দিই" বলার জায়গা।

একান্তই আমাদের নিজেদের একটা জায়গা। 
আমাদের তিন-স্টিক। 


Tuesday, May 21, 2013

কলিং বেল

সার্ভিস ডিজাইন ল্যাবের হোমোয়ার্কের মধ্যে কলিং বেলের প্রতীক আঁকাইলাম।
সেই থেকেই মনে পড়ল এ মাসের শুরুতে যখন বাসায় গেছি, দেখি বাসার কলিং বেলের টোন চেঞ্জ হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই বাসার কলিং বেলে লম্বা-চওড়া মিউজিক্যাল টোন শুনে আসছি। এবারই প্রথম শুনলাম ক্লাসিক ধরণের "ক্রিং" মার্কা টোন। কেন? আম্মুক্ব জিজ্ঞেস করলে বলেছিল আব্বুর অত বড় টোনে ভাল্লাগছিল না। বাসার কলিং বেলের "বেল"টা আব্বুদের রুমের জাস্ট বাইরে, ঐ ঘর থেকেই সবচেয়ে জোরে শোনা যায়। আব্বুর যেন পেইন না লাগে, তাই মিউজিক্যাল টোন বাদ দিয়ে ছোট টোন।
ঐবার বাসায় যখন ছিলাম তখনই আব্বুর অনেক বেশি গরম লাগছিল বলে মুভেবল এয়ার কুলার কিনে আনে ভাইয়া, যখন আব্বু যে রুমে তখন সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
আব্বু সলিড কিছু খেতে পারছিল না বলে বাসায় হরলিক্স, গ্লুকোজ, গুঁড়ো দুধ এসব ভরিয়ে দেওয়া হয়। অসংখ্য ফল ছিল বাসায়, কারণ জ্যুস/শরবত খেতে পারছিল। সহজে স্যুপ বানানোর সরঞ্জাম রেডি ছিল।

আব্বুর লাংস ক্যান্সার ধরা পড়ে মার্চের শেষের দিকে। ধরা পড়ার পর দেড় মাস মাত্র বেঁচেছিল আব্বু।

এখনও আমাদের বাসা ভর্তি ফল, অনেক হরলিক্স-গ্লুকোজ বলে আমাকে দিয়ে দিয়েছে কিছু, কিছু ভাইয়াকে, কিছু আরও কাউকে।
আব্বুর পেনড্রাইভ, ইবুক রিডার পড়ে থাকত বাসায় পিসির পাশে। এখন আমার কাছে।
ড্রইং রুমে এখনও কুলারটা পড়ে আছে, হয়তো অনও করা হয় মাঝে মাঝে।

আব্বুর দাফন শেষে বাসায় ছিলাম যখন, অল্প-কয়বারই বেল বাজিয়েছি। ক্রিং করে শব্দটা হয়েছে। শুধু মনে হয়েছে, এখন আর আব্বুর সমস্যা হচ্ছে না মিউজিক্যাল টোনে। ছোট টোনে কোন সমস্যা দূরও হচ্ছে না আব্বুর। হচ্ছে না আর কিছুই।

Wednesday, January 02, 2013

"আমি ও আমার দাঁত"

আমার নিজের যদ্দুর মনে পড়ে ক্লাস টি বা থ্রি থেকে আমার দাঁত বেশ খানিকটা হলুদ। ঠিক সাধারণ না। দেখতে মনে হয় একটু খারাপই লাগে। ছোটবেলায় অনেক শুকনা-পটকা-দুর্বল একটা ছেলে ছিলাম। এই অসুখ-সেই অসুখ লেগে থাকত। আমিও থাকতাম বিভিন্ন ওষুধের উপর। কোন কোনটার সাইমেল্টেনাস রিএকশনের কারণে হয়তো সাদা রঙ হারায় গেছে। যাই হোক গায়ে লাগাই নাই আর কি বেশি। ছোট ছিলাম, দাঁতের রঙের মত আনইন্টারেস্টিং বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময় কই?
সমস্যাটা হইলো যখন বুঝলাম অন্যদের চোখে পড়ে জিনিসটা। আর এইটা আমারে কিঞ্চিত অস্বাভাবিক হিসেবে এস্টাব্লিশ করছে। প্রথম প্রথম এক দুইজন জিজ্ঞেস করতো "তোমার দাঁতে কোন সমস্যা আছে?"। পরের দিকে আর জিজ্ঞেস-টিজ্ঞেস করার ব্যাপার নাই, মোটামোটি ভালো সম্পর্ক যাদের সাথে তারা পরামর্শ দিত "নিয়মিত দাঁত মাজার অভ্যাস কর, নাহলে অনেক ক্ষতি হবে"। কিঞ্চিত খারাপ সম্পর্ক যাদের সাথে তারা আবর্জনার স্তুপ-টুপের সাথে তুলনা করে ফেলে এরকম অবস্থা। 
তো এসবে আমার প্রতিক্রিয়া কি হইল? আমি ব্যাপারটা নিয়ে কিঞ্চিত ইনফেরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগতে শুরু করলাম। কথা বলার সময় মুখ বেশি ফাঁক করা যাবে না। হাহা করে প্রাণ খুলে হাসা যাবে না, পারতপক্ষে হাসি জিনিসটাকেই অ্যাভয়েড করতে হবে, যদি কখনো হেসেও ফেলি আটকাতে না পেরে, সাথে সাথে একটা হাত মুখের সামনে এনে দাঁতের ভিউ লুকাতে হবে। পুরাই গম্ভীর, ভীতিকর, ভাবিস্ট একজন মানুষ আর কি(আমি বলছি না আমার স্কুল লাইগে গম্ভীর, কিঞ্চিত অসামাজিক হওয়ার কোন ইম্পর্ট্যান্ট কারণ দাঁতের রঙ, তবে একটা কারণ তো বটেই)।
যাই হোক, আরেকটু বড় হলাম, বুঝতে শিখলাম কিছুমিছু। বুঝলাম আমার দাঁতের রঙ আসলে কাছের লোকজনের জন্য সেরকম সমস্যা না। ইন ফ্যাক্ট কারও জন্যই কোন সমস্যা না। সমস্যা যা সেইটা আমারই। এই হলুদ রঙের দাঁতের জন্য আমি হাসতে পারব না, সেইটা তো মেনে নেওয়া যায় না। সব ছবিতে আমি ঠোঁট চেপে ধরে গম্ভীর লুক দিব সেইটাও তো কাজের কিছু হল না। তাই আমি আবার আমার দাঁত বের করা শুরু করলাম। বিকট অট্টহাসি দেওয়া শুরু করলাম। এইটা কলেজের কথা। এখন অবস্থাটা এমনই দাঁড়িয়েছে যে মানুষজন আমার ছবি দেখে জিজ্ঞেস করে "ভাই তোর কি আদৌ কোন ছবি আছে যেখানে তোর দাঁত বের করা না?"। আমিও হেহে করে যাই। মানুষ এখন আবার আইসা দাঁত নিয়ে পচায়, ছবির ক্যাপশন দিয়ে দেয় "রুশো ও তার দাঁত"। আমিও পচি। আমারই তো দাঁত, হলুদ-টলুদ যাই হোক। আমি বের করে হাসতেই পারি। এটা নিয়ে কেউ মজা করতেই পারে, তার সাথে সাথে আমিও নাহয় মজা নিলাম। 
:D :D

Wednesday, October 31, 2012

রোবটিক্সের তিন সূত্র - আইজ্যাক আসিমভ


(The original text is Isaac Asimov's "The Laws of Robotics" written in 1979.)

কম্পিউটার জিনিসটা সম্বন্ধে চিন্তা করার সময় এই চিন্তা মাথার বাইরে রাখা মনে হয় সহজ না যে তারা কখনও পৃথিবী “দখল” করে নিবে নাকি।
তারা কি আমাদের জায়গা নিয়ে নিবে, অপ্রয়োজনীয়-অপাংক্তেয় বানিয়ে ফেলবে আর তারপর ছুঁড়ে ফেলে দিবে আমাদের যেভাবে আমরা পুরানো ভাঙ্গা যন্ত্রপাতি ফেলে দিই? ঠিক যেমন আমরা একসময় ঢাল-বর্শা ফেলে দিয়ে হাতে তুলে নিয়েছি আধুনিক সমরাস্ত্র। পাথরে পাথর ঠুকার বদলে আগুন জ্বালানো শুরু করেছি ম্যাচের কাঠি পরে লাইটার দিয়ে।
কম্পিউটারের মত ব্রেন যদি আমরা চিন্তা করি মানুষের মত দেখতে ধাতব একটা যন্ত্রের ভিতর যাকে কিনা আমরা বলি রোবট তাহলে ভয়টা মনে হয় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কল্পনার রোবট দেখতে এত বেশি মানুষের মত যে তাদের চেহারাই যেন তাদেরকে বিদ্রোহী হয়ে ওঠার বুদ্ধি যোগাবে।
বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনীর জগত এই সমস্যারই মুখোমুখি হয়ে ছিল ১৯২০ আর ১৯৩০ এর দশকে। আর সেই সময়ের গল্পগুলোর অনেকগুলোই ছিল রোবটদের ব্যাপারে সাবধানবানী। কিভাবে তারা একসময় গিয়ে তাদের নির্মাতা মানুষের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের ধ্বংস করে দেয়।
আমি যখন কেবলই তরুণ তখন আমি এই সাবধানবানী শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম। আমার মনে হত রোবট তো শেষ পর্যন্ত একটা যন্ত্রই, আর মানুষ সবসময়ই নতুন নতুন যন্ত্র বানাচ্ছে। আর সব যন্ত্রই তো কোন না কোনভাবে বিপদজনক, তাই মানুষ কি করে? যন্ত্রের মধ্যে এমন কোন ব্যবস্থা করে দেয় যেন তা নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।
সেই সময়, ১৯৩৯ সালে আমি তাই এমন গল্প লিখা শুরু করলাম যেখানে রোবটকে উপস্থাপন করা হয়েছে ভয়ের সাথে না, সহানুভূতির সাথে। এমন যন্ত্র হিসেবে যা এমনভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে যেন তাকে ব্যবহার করা যায় নিশ্চিন্তে, যার মধ্যে হিংস্র মনোভাব থাকার সম্ভাবনা নেই আর সর্বোপরি যা তাকে যে কাজ দেওয়া হয় সেটা ভালোভাবেই সম্পন্ন করতে পারে।
তো নিরাপদ রাখার জন্য কি কি “safeguard” বা রক্ষাকবচ রাখতে হবে ডিজাইনের সময়? এই জিনিসটাই আমি প্রথম অক্টোবর, ১৯৪১ এর একটা গল্পে লিখি সুনির্দিষ্ট করে “রোবটিক্সের তিন সূত্র” হিসেবে। সূত্রগুলো হচ্ছেঃ
  • একটা রোবট কখনোই একজন মানুষকে আঘাত করতে পারবে না কিংবা নিষ্ক্রিয় থেকে কোন মানুষের উপর আঘাত আসতে দিতে পারবে না।
  • একটা রোবটকে অবশ্যই কোন মানুষের সকল আদেশকে মান্য করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই আদেশ প্রথম সূত্রকে অমান্য করে। 
  • একটা রোবট অবশ্যই তার নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করে চলবে যতক্ষন পর্যন্ত না রক্ষা করতে গিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় সূত্রকে ভঙ্গ করতে হয়।
এই সূত্রগুলো অবশ্যই একটা রোবটের কৃত্রিম মস্তিষ্কে/Processing unit-এ প্রোগ্রাম করে দিতে হবে। তো আমি এই সূত্রগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনেকগুলো গল্প লিখলাম, বলা যায় লিখতে থাকলাম। এই সূত্রগুলো এত জনপ্রিয় হল পাঠকদের মধ্যে যে আমার সময়ের অন্য অনেক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখকও এই সূত্রগুলো মাথায় রেখে গল্প লিখতে লাগলেন আর আগের যুগের রোবটের আমাদের ধ্বংস করে দেওয়ার কাহিনী ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল।
কিন্তু এটা তো সায়েন্স ফিকশনের কথা। আসল দুনিয়ায় কি হচ্ছে? এখন কম্পিউটার আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে, সেখানে কি হচ্ছে? সেখানেও কি এরকম রক্ষাকবচ রাখা হবে তাদের ডিজাইনেই? যেসব যন্ত্রের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা থাকবে তাদের মাথাতেও কি রোবটিক্সের তিনটি সূত্রের মত কিছু থাকবে তাদের নিরাপদ বানানোর জন্য?
অবশ্যই থাকা উচিৎ, যদি ধরে নিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা মানুষজনের নিজেদের বুদ্ধিমত্তা খুব নিম্নশ্রেণীর না। এবং তাদের যে রক্ষাকবচ থাকবে তা যে শুধু রোবটিক্সের তিনটি সূত্রের মত হতে হবে তাই না, সেগুলোকে রোবটিক্সের তিনটি সূত্রই হতে হবে। আমি যখন সূত্র তিনটি লিখি তখন বুঝি নি যে আমি যা লিখেছি তা আসলে মানুষ অনেক অনেকদিন ধরে প্রয়োগ করে আসছে, যদিও ঠিক রোবটিক্সের সূত্র হিসেবে না। বরং বলা যেতে পারে আমি লিখে ফেলেছিলাম সার্বিক ভাবে “যেকোন যন্ত্রের তিন সূত্র”। কিরকম? সেগুলো হতে পারে এরকমঃ
  • যেকোন যন্ত্রকে হতে হবে নিরাপদ। (স্বাভাবিক! যেমন একটা ছোরার আছে হাতল, একটা ভোঁতা দিক। এমন যন্ত্র যা তার ব্যবহারকারী সাবধানে থাকার পরেও তার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে নিশ্চয়ই একটা ভালো যন্ত্র হিসেবে গন্য হবে না। এটা কখনো নিয়মিত ব্যবাহার্যও হয়ে উঠতে পারবে না।)
  • একটা যন্ত্রের যা করার কথা, সেটা অবশ্যই তা করবে। এবং অবশ্যই নিরাপদভাবেই করবে, অন্য কারও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না।
  • একটা যন্ত্র অক্ষত থাকতে হবে কাজের সময় যদি না তাকে ধ্বংস করা নিরাপত্তার জন্য দরকারী হয় অথবা তার ধ্বংস হওয়া তার কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে থাকে।
এই তিনটা সূত্র কেউ কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চারণ করে না তার কারণ এরা অতিরিক্ত রকমের স্বাভাবিক। এগুলো যদি কারও সামনে বলা হবে তার প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা “এটা আবার বলে দিতে হয় নাকি!”।
স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে “রোবোটিক্সের তিন সূত্র” আর যেকোন যন্ত্রের তিন সূত্র হচ্ছে একই জিনিস। আর হবে নাই বা কেন, রোবট/কম্পিউটার এগুলোতো মানুষের তৈরি আরেকটা যন্ত্র ছাড়া কিছু না।
এখন রোবটের মধ্যে যে সেফগার্ড প্রোগ্রাম করে দেওয়া থাকবে তা কি যথেষ্ট হবে? রোবট তাতে “নিরাপদ” হয়ে উঠবে? এই প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন উদাহরণ থেকে দেওয়া যাক। সাধারণ একটা গাড়িকে নিরাপদ করে তুলতে তো কম কষ্ট করা হয় না, নিত্যনতুন গ্যাজেট আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢোকানো হয়। কিন্তু তারপরেও আমেরিকাতে বছরে পঞ্চাশ হাজার মানুষ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। চিন্তা করুন, ব্যাঙ্কে আমাদের টাকা নিরাপদে রাখার জন্য ব্যাঙ্কের সিকিউরিটি বাড়ানো হয় কত-শত ভাবে আর তারপরেও একের পর এক ব্যাঙ্ক ডাকাতি হতেই থাকে। কম্পিউটার প্রোগ্রামের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার জন্যও কত কিছু করা হয় আর তারপরেও হ্যাকিং, ক্র্যাকিং, কম্পিউটারে জালিয়াতি এসবের কত নজিরই তো সামনে।
যাই হোক, রোবটের ক্ষেত্রেও এরকম কিছু হতে পারে কিন্তু তারা আমাদের উপর দখলদারিত্ব কায়েম করবে এটা অনেকটাই অস্বাভাবিক। বরং তারা যদি কখনও সবকিছু দখল করে নেওয়ার মত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হয়েই উঠে তারা হয়তো এতটা বুদ্ধিমানও হয়ে উঠবে যে তাদের আর তিনটি সূত্র দিয়ে চালিত হতে হবে না। তারা তাদের নিজেদের সদিচ্ছা থেকেই আমাদের খেয়াল রাখবে আর আমাদেরকে আঘাতের হাত থেকে রক্ষা করবে।
এখানে এসে কেউ কেউ আপত্তি জানাতে পারেন। আমরা তো আর সবাই বাচ্চা-কাচ্চা না, আমাদের মানবসত্তার উপর, আত্মাভিমানের উপর এটা একটা আঘাত হবে যদি আমাদের এভাবে রক্ষা করে রাখতে হয়।
আসলেই কি তাই? আজকের বিশ্বের দিকে তাকান, অতীতের দিকে তাকান আর তারপর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আমরা কি বাচ্চাদের মতই আচরণ করি না? শুধু তাই না বরং ধ্বংসাত্বক বাচ্চা-কাচ্চা। আর ভাবুন নিজেদের কাছ থেকেই নিজেদের রক্ষা করাটা জরুরি মনে হয় কিনা।
আমরা যদি দাবি করি যে আমাদের সাথে প্রাপ্তবয়স্কের মত আচরণ করা হোক, তাহলে কি আমাদেরই উচিৎ না প্রাপ্তবয়স্কের মত আচরণ করা? তাই যদি হয় তবে কবে আমরা তা করা শুরু করব?