Showing posts with label নীলগিরি. Show all posts
Showing posts with label নীলগিরি. Show all posts

Friday, April 06, 2012

Tour de কাঁটাতার – বান্দরবান পর্ব – ১


Tour de কাঁটাতার – বান্দরবান পর্ব – ১
আমি ট্রেনযাত্রা জিনিসটাকে বরাবরই “ভালু পাই”। রাতের ট্রেনে ভাল ঘুমও হয়। এযাত্রায় ব্যতিক্রম হয় নাই। রাতে কি কি নিয়ে যেন কথা হচ্ছিল। তানভীরের ওসি নামকরণের তাৎপর্য যেটা আবার তাজিন-এমডি ছাড়া বাকিরা কেউ পুরোপুরি জানি না(তার মানে এই না যে আমরা ওকে ওসি ডাকি না:D); শিফুর ইতিহাসজ্ঞানের পরিধি; এমডির ক্যাপের অংশবিশেষের গোলাপী বর্ণ। যাই হোক এর মধ্যে আমি ঘুমিয়ে গেছি আর ঘুম থেকে উঠেছি চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে। এই স্টেশনে শেষ এসেছি যখন তখনও ঘুরতে। আব্বু-আম্মু-ভাইয়ার’র সাথে সেবার কক্স’সবাজার, রাঙ্গামাটি এক দফা ঘুরে গেছি। মাথার মধ্যে সিমিলারিটি খোঁজার অ্যাপ চালু হয়ে গেল, আমিও নোটিস করা শুরু করলাম, আরে এইরকম হ্যান দেখসি; ঐরকম ত্যান দেখসি; ঐদিক দিয়ে মনে হয় বের হইতে হয়। সাথে দেড় লোকাল পোলা থাকায়(হামু লোকাল আর কক্স’সবাজারের কাছাকাছি আমাদের অবস্থানের সুবাদে শিফু আধা-লোকাল) ভুলভাল কথাবার্তা বেরিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ নিজের কাছেই রাখলাম আর কি।
তো বান্দরবান পৌঁছতে হবে যত দ্রুত সম্ভব, তাই সাথে সাথে রাচি-শিফু দৌঁড় দিল টিকেট কাটতে। পেয়েও গেল ৯টার টিকেট, বিআরটিসির বাস, কাউন্টার স্টেশন থেকে অল্পই দূরে। আমরাও ট্যুরের “প্রথম যাত্রাপথে খাওয়া” স্টেশনের বাইরেই একটা রেস্টুরেন্টে সেরে দিলাম হাঁটা। বাসটাকে দেখেই কেন জানি ভাল্লেগে গেছিল, মাথায় যে শব্দটা প্রথম আসল, তা হল “cool”। বাস ছাড়ল সময়মতই। এই বাস জার্নিটা পার্সোনালি আমার জন্য ঝামেলার ছিল আমার পুরানো শত্রু “motion sickness” এর আবির্ভাবের কারণে। তার জন্য এমনিতে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটে নাই ঐদিন বিকালের আগ পর্যন্ত, যাই হোক। আরেকটা যে কারণে এই জার্নিটা উল্লেখযোগ্য এই জার্নিটার সময়েই মনে হয় প্রথম আমাদের কথাবার্তায় প্রমিনেন্ট হয়ে উঠে “কাঁটাতার”। এটার ব্যাকগ্রাউন্ড আসলে খুবই সিম্পল। কারা কারা “বাইশে শ্রাবণ” সিনেমাটা দেখেছে জানি না, অন্তত গান শুনে থাকার কথা। “গভীরে যাও”, “একবার বল”, “এই শ্রাবণ” ইত্যাদি। না শুনে থাকলে কেউ শুনে দেখার পরামর্শ দেওয়া হল। তো “এই শ্রাবণ” গানটার প্রথম লাইন হচ্ছে “আমি কাঁটাতারেই সুখী…”। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো গানের গলা  নিরুর(সবচেয়ে ভালো আর কি, গানের গলা আছেই এক নিরুর) আর সে কিছুক্ষন পর পরই এই গানটা গেয়ে উঠছিল। পুরো গান জানে না বিধায় কিছুক্ষন পর পর ফিরে আসছিল কাঁটাতরের গল্পে। কাহাঁতক আর এক গান এমনি এমনি শুনে যাওয়া যায়। কিছুক্ষন পর একে একে অনেকের মাথাতেই হয়ত এই চিন্তাটাই এসেছিল যে কি এমন করে নির্ঝর কাঁটাতার দিয়ে যে সুখী হয়ে উঠে এক কাঁটাতারেই। শিবলু তো গানও ধরে, “নিরু কাঁটাতারে সুখী…”(গানের বাকি অংশ সর্বসাধারণের শোনার মত না)। সেই শুরু, তারপর থেকে কতবার যে কাঁটাতারের অবতারণা হয় কথোপকথনে কেউই আর হিসেব করে উঠতে পারি নাই।
বান্দরবান পৌঁছলাম সাড়ে এগারোটার দিকে। বান্দরবানে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করেছিল নির্ঝর। ওর বাবার এক কলিগের থ্রুতে লোকাল হর্টিকালচার সেন্টারের কিছু একটায়। তো আমরা ডিসিশন নিলাম যে সেখানে না, দেরি না করে ইমিডিয়েটলি নীলগিরি ঘুরে আসা হবে। চাঁদের গাড়িতে করে যাওয়া যায়(এই বস্তুর কথা একটু পরে এলাবোরেট করি), যেতে সময় লাগে ভালোই, গিয়ে আবার ফিরেও তো আসতে হবে। পথে একটা শৈলপ্রপাত আর চিম্বুক পাহাড় পড়ে, যাওয়া আসা মিলে খরচ পড়বে ৪০০০ টাকা। উঠে গেলাম ১২ জন। এবার চাঁদের গাড়ির গঠন সম্বন্ধে একটু বলা যায়। জিনিসটা আমার মূলত একটা পিক-আপের মতই লাগল, পিছের স্পেস বেশি সামনে শুধু ড্রাইভার আর একটা প্যাসেঞ্জার সিট রেখে। আমার কেন জানি ঢাকার লেগুনা বা রাজশাহীতে আমরা যেগুলোকে ইমা বলতাম তার কথা মনে পড়ল। বসা যায় ১০ জন, আমরা কেউ সামনে প্যাসেঞ্জার সিটে যেতে না চাওয়ায় ১২ জন চাপাচাপি করে থেকে গেলাম, বেশিরভাগ সময়েই কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে থাকল আর কি। তো নীলগিরি কেউ যেতে চাইলে আর তাদের টাইমলাইন যদি আমাদের মত হয় তবে বলে রাখ দুপুর বেলার খিদা মিটানোর মত খাবার কিনে নিয়ে যাবেন। এইখানেই ভুলটা আমরা করেছিলাম, অল্পস্বল্প একচুয়ালি খিদা মিটানোর খাবার নিয়েছিলাম, আর সাথে নিয়েছিলাম ডালমুট মার্কা হুদা স্ন্যাক্স(যা শেষমেশ কাজে এসেছে কিনা আমরা নীলগিরি করে ফিরে আসার পর)। আরেকটা জিনিস নিবেন অবশ্যই, পানি, অনেক।  অবশেষে যাত্রা হল শুরু, কড়া রোদ, টুপি পড়ে আছি সবাই, কারও তাতেও কুলোচ্ছে না গামছা জড়াচ্ছে। এর মধ্যে দুজনের ক্যাপ গেল উড়ে, সাফাত তারটা ফেরৎ পেলেও এইচের টুপি হারিয়েই ট্যুরে আমাদের “হারানো”র খাতা খুলল। শৈলপ্রপাত যে জায়গায় সে জায়গাটা পার করে গেলাম সবার প্রথমে, ফেরার সময় দেখব এই নিয়্যতে। যাই হোক, আঁকাবাঁকা পথ, ধীরে ধীরে উঠছি আর ড্রাইভারের স্কিলের প্রশংসা করছি(এই কাজটা করেছিলাম বান্দরবান আসার বাস ট্যুরেও, আসলেই কতটা স্কিল লাগে এইরকম রাস্তাগুলোতে গাড়ি চালানোও মোটামোটি বিনাক্লেশের কাজ বানিয়ে দিতে আমার চিন্তার বাইরে) আমি আর শিফু তো প্ল্যানও করে ফেললাম এই রাস্তাতেই হবে আমাদের মুভি, “ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস – বান্দরবান ড্রিফট”। রাস্তা এমনও ছিল যে একটু দূরের কোন রাস্তা, যেটা দেখে এই মনে হয় যে আরে ওটা কোন চিপা রাস্তা হবে, একটু পর সেই রাস্তাতেই চড়ে বসি। আর আসলেই মজা লাগছিল উপরে উঠতে উঠতে ফেলে আসা রাস্তাগুলোকে দেখতে। বিশ্বাসই যখন হতে চাচ্ছিল না যে ঐ রাস্তাগুলোই আমরা পার করে আসছি, তখনই ঐ রাস্তা দিয়ে আমাদেরই মত চাঁদের গাড়ি নিয়ে কাউকে উঠে আসতে দেখি। আর এরই মাঝে দু পাশের ভিউ চেঞ্জ হচ্ছে। আসলেই যে দুই পাশে তাকাতে কত সুন্দর লাগছিল বলে বুঝানো যাবে না। একটু পর পর খোলা আকাশ দেখি, নিচে তাকিয়ে বুঝি আমরা কত উপরে, আর একবার করে সবাই মিলে চিৎকার করে উঠি। যাই হোক, একটু পর হঠাৎ যখন নিচের দিকের ভিউ খেয়াল করলাম আর বহুদূরে দেখলাম একটা এক চিলতে নদী, গাড়ি থামিয়ে না নেমে পারলাম না। ওখানেই একটা চেকপোস্টে বসে ছিল এক পুলিশ, তাকেই জিজ্ঞেস করল কে যেন, কোন নদী। উত্তরে সে গান শুনিয়ে দিল একটা, জানাল নদীর নাম শঙ্খ, শঙ্খ আর সাঙ্গু যে একই জিনিস তা আমি পরে জানতে পারসি উইকি থেকে। নদীর নাম যাই হোক, দৃশ্যটা ছিল বেশিই অসাধারণ।
এর পরের স্টপ, চিম্বুক পাহাড়। পাহাড় বলতে অনেক অল্টিচিউডের বিশাল কিছু তা না। রাস্তার ডানে আরকি বেশ খানিকটা উঁচুতে চড়তে হয়। খাড়াই যথেষ্টই ভাল। পরে রাতে শিফু মনে হয় বলেছিল যে বান্দরবান ট্যুরে এর চেয়েও বেশি খাড়াইয়ে যদি অনেক উঁচুতে চড়তে হয় তো খবরই আছে আমাদের। তো আমরাও সবাই রাস্তার ধারেই একটা দোকানে চা খেয়ে উঠা ধরলাম। পাহাড়ের গায়ে ট্র্যাক তৈরি হয়েই ছিল অনেকজন উঠতে উঠতেই। তো তা অনুসরণে এক এক করে উঠে পড়লামও সবাই। বান্দরবানে গিয়ে আমাদের প্রথম পায়ে করে উচ্চতা অতিক্রম আর কি। চিম্বুক পাহাড়ের উপর থেকে ভিউটাও বেশ সুন্দর। তবে যেহেতু আমরা গাড়িতে করেই যথেষ্ট উঁচুতে পৌছেছিলাম আর কি পায়ে বেয়ে উঠা এইটুকুতে উচ্চতা আর ভিউ খুব পরিবর্তন হয়েছে দাবি করব না। তাই ওখানে ভিউয়ের দিকে মনোযোগ না দিয়ে ছবি তুলতে-তোলাতে দেখলাম আমাদের অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ওখানে থাকে একটা “চড়ার যোগ্য” গাছ ছবি তোলার ব্যাপারটাকে আরও উৎসাহব্যঞ্জক করে তুলেছিল আর কি। তো যাই হোক, চিম্বুক পাহাড় ঘোরা শেষ, নীলগিরি পৌঁছতে হবে এই চিন্তা নিয়ে নামা শুরু করলাম। উঠেছিলাম যে খাড়াই বেয়ে সেটা বেয়েই নামা যেত, কিন্তু আবিষ্কার করলাম যে পিছনের দিকে একটা হেলানো, ঘুরানো রাস্তা আছে নামার জন্য। তো খামোকাই পেইন না নিয়ে নামলাম সেদিক দিয়ে। আমি, তাজিন, শাকির সবার আগে। নেমে গাড়ির কাছে এগুতে এগুতে দেখলাম রাস্তা দিয়ে না নেমে অনেকে পাহাড় বেয়ে নামছে। সবার সামনে শিফু। দেখে কেন যেন মনে হল ওর স্পিড ঠিক স্বাভাবিক না। একটু বেশিই যেন। মনে হওয়াটাকেই ঠিক প্রমাণিত করে ওর গতি যেন বাড়তেই থাকল। যেন দৌঁড়ে দৌঁড়ে নামছে সে। পড়বে-পড়বে না-পড়বে-পড়বে না ভাবছি আমি, দৌড়ের উপরেই প্রায় নিচে এসেও গেল সে, এই সময় আমার পাশে শাকির বলল “পড়ল বলে” আর ঠিক সেই সময়েই দৌড়টা রূপ নিল ডিগবাজিতে। রাস্তায় পৌঁছনোর ঠিক দুই-তিন ধাপ আগে ডিগবাজি খেল শিফু আর উলটে গিয়ে পড়ল রাস্তার উপর।
সৌভাগ্যক্রমে উলটে গিয়ে হাতের কাছে ছড়ে যাওয়া ছাড়া কিছু হয় নাই। অন্তত কিছু ভাঙে নাই বা মাথার উপর গিয়ে সে পড়ে নাই আর কি(শুধু মনে হচ্ছিল যে, তাও তো ভাল শিফু অতক্ষন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে, ডিগবাজি যদি রাস্তা থেকে দুই ফুট উপর থেকে ডিগবাজি না খেয়ে বিশ ফুট উপর থেকে খেত তবে কি হত)। ঐ ছড়ে যাওয়া চামড়াটুকুর কল্যানেই অবশ্য বাকি ট্যুরে শিফুর উচ্চারিত সবচেয়ে কমন শব্দ হয়ে গেছিল “আঁউ”। আমাদের আনা ওষুধ-পত্রের কিছু কাজে লাগল শেষমেশ। আর আমাদের বারোজনের মধ্যে প্রথম উইকেট পতন দেখে আমরা আবারও এগিয়ে চললাম নীলগিরির দিকে।

Thursday, March 29, 2012

Tour de কাঁটাতার – সূচনা পর্ব


এবারের টার্মব্রেকে বান্দরবান যাব এটা যে কবে থেকে মাথায় আছে আমার নিজেরও এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। বান্দরবানের আইডিয়া প্রথম আসে তানভীর-শিবলু’র মাথায়, তা সেও তো সেই কবেকার কথা। প্ল্যানও মোটামোটি ওদেরই করা। আমাদের যখন বলেছিল আমাদেরও তো এই ট্যুরে না বলার কোন কারণ নাই। এদিক সেদিকে দেখি সবাই রাজি। সেটাও পরীক্ষা শুরুর আগের কথা। তো আমরা পরীক্ষা শেষেই দৌড় দিব এই হল ডিসিশন। সেই পরীক্ষাই শেষ হওয়া তো দূরের কথা শুরুই হয় না। আমাদেরও আর সব ছেড়ে-ছুঁড়ে দৌড় দেওয়া হয় না। যাই হোক শেষ পর্যন্ত শেষ হল ১৮ তারিখে আর আমরাও ঐদিন বিকাল-সন্ধ্যা মিলিয়ে কিভাবে কিভাবে যেন বান্দরবান ট্যুরের প্রিপারেশন শেষ করলাম। মানে প্রিপারেশন বলতে আমরা যা বুঝছিলাম আর কি। আমাদের মধ্যে কাউরো কাউরো আবার ব্লগ, সিনিয়র ইত্যাদি মিলিয়ে প্রিপারেশন সম্বন্ধে অগাধ জ্ঞান হয়ে গেছিল। কেউ বলে ওডোমস নিতে ভুলিস না, আবার কেউবা বলে, আর যে যাই করুক আমি সানব্লক-সানস্ক্রিন ছাড়া নড়ছি না।
যাই হোক, সব শেষ করে ১৮ তারিখ রাত ১০টার কিছু আগে হাঁটা দিলাম ১২ জন মিলে কমলাপুর স্টেশনের দিকে। (এ বেলায় ১২ জন কে কে বলে নেওয়া যাক। আমি, শিবলু, তানভীর, এমডি, তাজিন, স্বর্নাভ, শিফু, রাচি, শাকির, নির্ঝর, সাফাত, এইচ। এই ১২ জনের কারও কারও আবার বিভিন্ন সময়ে বিপত্তি ছিল, তাজিনের স্কুলের রিইউনিয়নের সাথে সময় ক্ল্যাশ করছিল তাই সে মিস করছিল, পরে পরীক্ষা আর তার ফলে যাত্রাশুরু পিছানোতে বরং ভালোই হইসে আর কি। আর আমাদের ট্যুর শুরুর ঠিক আগে আগে শাকিরের ভাই অসুস্থ হল। সেটা নিয়ে ওর যাওয়া আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষে ভাইয়ের অবস্থা ভালোর দিকে যাওয়াতে শাকিরের যাওয়া নিশ্চিত হয়, আর উলটা পরীক্ষার ঠিক পরে যাওয়া ক্যান্সেল করে দেয় বাদুড় আকিব। বাকিরা বরাবরই কন্সট্যান্ট।) ট্রেন চট্টগ্রামের, (এটা বলতেই আরেকটা জিনিস মনে পড়ল, শুধু এই জার্নিটা, মানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, আকিব না থাকা সত্যেও আমরা আসলে ১৩ জনই ছিলাম, চট্টগ্রামেরই হামু একই ট্রেন বাড়ি যাওয়ার জন্য বেছে নেওয়ায়), ছাড়ার কথা ১১টা ৩০ এ। চট্টগ্রাম থেকে সকালে বাসে করে যাব বান্দরবান বলে প্ল্যান। তো ট্রেন আর সময়মত ছাড়ে না। এরই মধ্যে ঘটল বিপত্তি। স্টেশনে হকারের কাছে জিঞ্জার(যারা এ বস্তুটা চিনে না তাদেরকে দুর্ভাগা বলতেই হয়) দেখে সিফাত, আমার, শিবলুর কেনার শখ হল। কেনা হলও। তারপর আসার সময় হকার বলে টাকা নাকি দেওয়া হয় নাই। লেকু আর কাকে বলে। এদিকে শিফুর আবার মনে আছে সে টাকা দিয়েছে। তো এই নিয়েই ঝগড়া বাধার যোগাড়। আমরাও কেউ আবার শিফুর টাকা দেবার সময় দেখি নাই। যাই হোক একদম শুরুতেই ঝগড়া দিয়ে ট্যুর শুরু করার ইচ্ছা কারোই ছিল না, তাও আবার ২০টা টাকার জন্য। ওদিকে দেখলাম স্বঘোষিত নব্য খিটমিটে আবুলও(এখানে বলে রাখি যাহাই শিবলু তাহাই আবুল, বাকি যাত্রাবিবরণীতে এ দুটো সমার্থক ভাবে ব্যবহৃত হবে) দেখলাম উত্তেজিত হয়ে পড়ছে। তো টাকাটা দিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলা হল আর কি। মজার ব্যাপার হল এই একই লোকের কাছ থেকে আমরা ট্রেনে পরে আবার চিপস না কি যেন কিনেছিলাম। এইবারে চিপস কিনা থেকে শুরু করে টাকা দেওয়া-ফেরত নেওয়া পুরো সময়টা যেভাবে বারো জোড়া গম্ভীর চোখ ঐদিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে ছিল সেটা মনে পড়েই এখন হাসি পাচ্ছে। (আমরা প্রত্যেকবারই যখন একবার করে কোন না কোন ট্রান্সপোর্টে চড়েছি একগাদা খাওয়ার জিনিসপাতি কিনে ফেলেছি, আমরা বলতে আমাদের যাদের ব্যাগ খাবার-বিবর্জিত ছিল আর কি। এর বড় একটা ব্যতিক্রম ছিল স্বর্নাভ, তার আপুর কল্যাণে তার ব্যাগে কি কি যে ছিল সে নিজেও মনে হয় পুরোপুরি জানত না। সেই খাবার-দাবার ট্যুরের অনেকটা সময় পর্যন্ত টিকেছিল। তবে খিদের মাথায় যে কতবার স্বর্নাভের ব্যাগের শরনাপন্ন হয়েছি আর স্বর্নাভের আপুর প্রতি কৃতজ্ঞতায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি সেটা পরের ব্যাপার।)
যাই হোক, সবকিছুর শেষে গিয়ে ট্রেন চলা শুরু করল। বসলাম ধীরে সুস্থে সবাই একটা একটা করে জায়গা বেছে নিয়ে। কম্পার্টমেন্টের একদম এক কোণার সিটগুলো ছিল আমাদের। আর একদম শেষ মাথায় বাথরুমের পাশের সিটটা ফাঁকাই থেকে গেল। পরে এসে লোকজন বসেছিল যদিও, বসার আগ পর্যন্ত ঠিকই সিটটা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে বাদুড় আকিব মিসিং।